টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম (Tin Certificate online)

0

সুপ্রিয় পাঠক কেমন আছেন সবাই? আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করব টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম সম্পর্কে, টিন সার্টিফিকেট কেন দরকার এর সুবিধা অসুবিধা এবং অনলাইন থেকে কিভাবে বের করা যায় ইত্যাদি সম্পর্কে।

টিণ সার্টিফিকেট কি?

আপনি দেশের একজন করদাতা এবং আপনার একটি ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (Tax identification number) আছে এরকম একটি সনদকেই টিন সার্টিফিকেট বলা হয়।

১০ ডিজিটের তিন নাম্বারটি কর প্রধান কারী হিসেবে আপনার একটি পরিচিত নাম্বার যেটি দিয়ে আপনাকে সনাক্ত করা যাবে। এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই (Tin number) দিয়ে টিন সার্টিফিকেট যাচাই করা করতে পারে।

এই তিন নাম্বারের মাধ্যমে করদাতাকে চেনার উপায় হচ্ছে, প্রথম তিনটি সংখ্যা দ্বারা করদাতার কর অঞ্চল, মাঝের তিনটি সংখ্যা দ্বারা সেই করদাতার পদমর্যাদা এবং বাকি চারটি সংখ্যা দ্বারা করদাতার পরিচিতি চিহ্নিত করা হয়।

টিন করা মানেই আপনাকে করতে হবে এমনটি নয়। আপনার আয় কর সীমার মধ্যে করসিমার মধ্যে আসলেই তখনই কর পরিশোধ করতে হবে।

বর্তমানে  আয়কর অফিসে যেতে হয় না শুধুমাত্র আপনার মোবাইল নাম্বার ও জাতীয় পরিচয় পত্র (NID card) দিয়ে ই টিন করতে পারবেন।

টিন সার্টিফিকেট কেন দরকার?

শুধুমাত্র ব্যবসা বা চাকরি নয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের বাধ্যতামূলকভাবে  তৈরি করার প্রয়োজন হয়। টিন সার্টিফিকেট কি কি কাজ প্রয়জন হয় তা নিম্মে দেওয়া হল।

  • ব্যাবসা শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে।
  • মালিক হতে। সিটি কর্পোরেশন অঞ্চলে থাকা কোন জমি ফ্লাট বা ভবন রেজিস্ট্রেশন করতে।
  • ক্রেডিট কার্ড পেতে।
  • সঞ্চয় পত্র কিনতে।
  • কোন কোম্পানির শেয়ার কিনতে।
  • নিজের কোম্পানির নিবন্ধন করতে।
  • কোন পণ্য আমদানির লাইসেন্স নিতে।
  • মুক্ত পেশাজীবী যেমন হিসাব রক্ষক।
  • আইনজীবী চিকিৎসক প্রকৌশলীদের প্রেসার চর্চ করতে।
  • নির্বাচনের প্রার্থী হতে।
  • ব্যবসায় সমিতি বা কোন নিবন্ধিত সংগঠনের সদস্য হতে।
  • সরকারি আধা সরকারি স্থায়িত্ব শাসিত সংস্থার দরপত্রের অংশ নিতে।
  • right শেয়ারিং কোম্পানিতে গাড়ি দিতে।

উপরোক্ত ক্ষেত্রে আপনার আয় করসিনার মধ্য না আসলেও আপনার বাধ্যতামূলকভাবে টিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে।

টিন সার্টিফিকেটের সুবিধাগুলো।

টিন সার্টিফিকেটের প্রথম সুবিধা হল, আপনি দেশের একজন গর্বিত করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হবেন। আপনার আয়কর দিয়ে দেশ চলবে।

এছাড়ার টিন সার্টিফিকেট থাকার আরো কিছু ব্যক্তিগত সুবিধা রয়েছে যেমন, ব্যাংকে আপনার জমা কৃত অর্থের আয় থেকে ১০ পার্সেন্ট কর কর্তন করা হবে। যদি টিন সার্টিফিকেট না থাকে 15% কর্তন করা হবে। ব্যাংক ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড নিতে  থাকতে হবে।

বিভিন্ন সময়ে সরকার বিভিন্ন পেশাজীবী বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পড়ো পড়ো পুরনোদনা দেয়। সুবিধা নিতে ও টিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়‌।

টিন সার্টিফিকেট করতে কি কি লাগে?

  • জাতীয় পরিচয় পত্র।
  • সচল মোবাইল নাম্বার। 
  • কোম্পানির ক্ষেত্রে আরজেএসসি নাম্বার ইত্যাদি। অনলাইনে আয়কর নিবন্ধন করার জন্য এই তথ্যগুলো লাগবে। 

টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম

নতুন নিয়ম অনুসারে আয়কর নিবন্ধনধারীকে প্রথমেই আয়কর ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে হবে। আয়কর ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে আয়কর সাইটে লগইন করে টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদনপূর্বক টিন সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে।

আবেদন সম্পন্ন হলে এখান থেকে ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন। এ জন্য নিচের কাজগুলো করুন।

প্রথমে https://www.incometax.gov.bd/ প্রবেশ করুন। আয়কর ওয়েবসাইটের হোম পেজ ওপেন হবে। এখানে মেনু থেকে রেজিস্টার বাটন ক্লিক করুন। ডিসপ্লেতে রেজিস্টার ফরম ওপেন হলে শূন্য ঘরগুলো পূরণ করে শেষে রেজিস্টার বাটন ক্লিক করুন।

রেজিস্টার ফরমে দেয়া আপনার মোবাইল নাম্বারে তাৎক্ষণিকভাবে একটি কোড চলে যাবে এবং পর্দায় প্রদর্শিত ডায়ালগ বক্সে মোবাইলে পাঠানো কোডটি প্রদান করুন।

এরপর রেজিস্টার বাটন ক্লিক করলেই টিন আবেদন করার ফরম দেখতে পাবেন এবং পর্দায় ‘ওয়েলকাম টু ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার রেজিস্ট্রেশন/ রি-রেজিস্ট্রেশন’ মেসেজ দেখা যাবে।

অর্থাৎ, আয়কর সাইটে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেছে। এখন লগইন অবস্থায় টিন সার্টিফিকেট আবেদন করে তাৎক্ষণিকভাবে আয়কর সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

Leave A Reply

Your email address will not be published.