সৌদি আরব কাজের ভিসা ২০২৩

0

আপনি কি সৌদি আরব কাজের ভিসা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? আজকে আমরা সৌদি আরব এর কাজের ভিসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আজকের আলোচনা থেকে আপনারা সৌদি আরব সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে পারবেন।

যেমন, সৌদি আরব কাজের ভিসা কিভাবে পাবেন, সৌদি আরব যেতে কত টাকা লাগে, সৌদি আরবের বেতন কত, সৌদি ভিসার দাম কত, কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন, ভিসা চেক করার নিয়ম ইত্যাদি বিষয়  সম্পর্কে জানতে পারবেন। চলুন এই সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

সৌদি আরব কাজের ভিসা ২০২৩

 প্রতিবছর সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই  বিভিন্ন রকম কাজ করার জন্য যেয়ে থাকেন। ২০২৩ সালেও তার ব্যতিক্রম নয়। অনেকে রয়েছেন যারা ২০২৩ সালে সৌদি আরব যেতে আগ্রহী। ২০২৩ সালের সৌদি আরবে ইলেকট্রনিক্স, নির্মাণ কাজ, অটোমোবাইল, পাইপ ফিটিং ইত্যাদি বিষয়ের ওপর অভিজ্ঞতা অর্জন করে আপনারা কাজ করতে যেতে পারেন। এই সকল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে উল্লেখ করা হলো।

সৌদি আরবের ভিসা খরচ কত

সৌদি আরবের ভিসা খরচ বিভিন্ন ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে চান তাহলে আপনার সম্পূর্ণ খরচ হবে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ টাকা। আপনি যেকোন এজেন্সি সাহায্য নিয়ে  খুব সহজেই সৌদি আরব যেতে পারেন। আমেল মঞ্জিল ভিসা এর জন্য খরচ হয় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। খাদ্যামা ভিসার ক্ষেত্রে খরচ হবে  প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। যেকোনো ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে সৌদি আরব যেতে চাইলে আপনার  আড়াই লক্ষ টাকার বেশি খরচ হবে। আপনারা যদি দালালের সাহায্য নিয়ে সৌদি আরব যান  সেক্ষেত্রে আপনাদের খরচ তুলনামূলকভাবে ৪ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।

সৌদি আরবে কাজের বেতন কত

সৌদি আরবে একজন শ্রমিক কাজ করে সাধারণত প্রতি মাসে আয় করতে পারেন বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা বা তার অধিক।  তবে কাজের ক্যাটাগরি এবং কোম্পানির ওপর নির্ভর করে বেতন কমবেশি হয়ে থাকে। বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বেতন নির্ধারণ করা হয়। তবে আপনি যে কাজই করেন না কেন প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

সৌদি আরব যেতে কি কি কাগজপত্র লাগে

সৌদি আরব যেতে হলে আপনার বেশ কিছু কাগজপত্র এর প্রয়োজন হবে। যে সকল কাগজপত্রগুলো ছাড়া আপনি সৌদি আরব কোন ভিসা  নিয়ে যেতে পারবেন না। ভিসা পাবার জন্য নিচে উল্লেখিত ডকুমেন্টগুলো আপনার অত্যন্ত প্রয়োজন।

এই সকল ডকুমেন্টসগুলো সঠিক না থাকলে আপনি ভিসা  সংগ্রহ করতে পারবেন না। সুতরাং আমাদের সকলের উচিত সৌদি আরব যেতে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হয় তা সম্পর্কে জানা।

  • একটি বৈধ পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হবে। যাতে সর্বনিম্ন ৬ মাস বা তার বেশি মেয়াদ থাকতে হবে।
  • সৌদি আরবে ভিসা আবেদন ফরম
  •  এনআইডি কার্ড এবং জন্ম নিবন্ধন
  • নিজস্ব ছবি এবং অবশ্যই ছবিটি  সদ্য তোলা হতে হবে।
  • কাজের নিবন্ধন সনদপত্র (যদি থাকে)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • হেলথ সার্টিফিকেট
  • ট্রেভেল ইনশিওরেন্স সার্টিফিকেট
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
  •  করোনা টিকা কার্ড।

 আরো অন্যান্য  কাগজপত্র ও প্রয়োজন হতে পারে। আপনি যে এজেন্সি বা যে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব যাবেন তাদের কাছ থেকে আপনার কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন তা জেনে নিতে পারবেন। আপনারা  চাইলে নিকটস্থ  দূতাবাস থেকেও জেনে নিতে পারেন।

সৌদি ভিসা কত প্রকার

সৌদি আরবের ভিসা কয়েক ধরনের। আসন সৌদি আরবের ভিসা সম্পর্কিত কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক:

  1. ভ্রমণ ভিসা: এই ভিসা দ্বারা আপনি সৌদি আরবে সফর করতে পারেন এবং কিছু সময়ের জন্য সেখানে থাকতে পারেন। এই ভিসাটি সাধারণত পর্যটন বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
  2. ব্যবসায়ী ভিসা (Business Visa) – সৌদি আরবে ব্যবসা করতে যাওয়ার জন্য এই ধরনের ভিসা প্রয়োজন।
  3.  ওয়ার্ক পারমিট ভিসা-  এই ভিসা গুলোর মাধ্যমে আপনারা সৌদি আরব গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারবেন।
  4. পরিবার সদস্য ভিসা (Family Visit Visa) – সৌদি আরবের নিজস্ব বা আমদানিকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের জন্য এই ধরনের ভিসা জারি করা হয়।
  5. স্টুডেন্ট ভিসা (Student Visa) – সৌদি আরবে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য এই ধরনের ভিসা প্রয়োজন হয়ে থাকে।
 সৌদি আরব কাজের ভিসা

সৌদি আরবের কাজের ভিসার বয়স কত

যারা বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কাজ করতে যাবেন বলে ভাবছেন তাদের বয়স ১৮ বছর থেকে ৬০ বছর এর মধ্যে হতে হবে। ১৮ বছর এর নিচে হলে আপনি কাজের জন্য ভিসা পাবেন না। সুতরাং আপনি যদি কাজ করতে যেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার বয়স  ১৮ বা তার বেশি হতে হবে।

সৌদি আরব ভিসা এজেন্সি

বাংলাদেশে অনেক সরকারি এবং বেসরকারি এজেন্সি রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে মানুষ প্রেরণ করে থাকেন। অনেক বেসরকারি এজেন্সি রয়েছে  যারা সৌদিতে মানুষ প্রেরণ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ARMAN HOLIDAYS , VISA THING  , Shebaru ইত্যাদি। বাংলাদেশের ঢাকা মহাখালীতে যে  বুয়েসেল রয়েছে সেই বুয়েসেলের সাহায্য নিয়ে আপনারা বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যেতে পারেন। এটা অনেক বিশ্বস্ত একটি এজেন্সি।

সৌদি আরবে বাঙালিরা কি কি কাজ করেন

বাঙালিরা কাজের জন্য যে দেশের সবথেকে বেশি অধিবাসন করে সেটি হল সৌদি আরব। আসুন আমরা জেনে নেই সৌদি আরবে গিয়ে বাঙ্গালিরা কোন কাজগুলো বেশি করে থাকে।

  • বিল্ডিং নির্মাণ,
  • রাস্তা নির্মাণ
  • মেশিনারি কাজ
  • হোটেল, রেস্টুরেন্ট
  • অফিসে সহায়তা
  • কারখানা কর্মী,
  • টেলিফোন অপারেটর,
  • কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি,
  • টেকনিশিয়ান
  • কম্পিউটার অপারেটর
  • গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল সেক্টরে কর্মী
  • এলইডি এবং ইলেকট্রনিক্স এর কর্মী
  • স্কুল ও কলেজে কর্মী
  • ইঞ্জিনিয়ার
  • কার চালক
  • বিক্রেতা এবং মার্কেটিং কর্মী
  • স্বাস্থ্যসেবা সেক্টরে কর্মী

সৌদি আরব ভিসা প্রসেসিং

সৌদি আরবের ভিসা প্রসেসন হতে সময় লাগে প্রায়ই আড়াই মাসের মতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সময় কম বা বেশি লাগতে পারে। তবে যদি সরকার নিবন্ধিত রেকর্ডিং এজেন্সির মাধ্যমে যান তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে ভিসা পাওয়া সম্ভব। আপনারা অনলাইন এবং অফলাইনের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। আপনি যদি দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে অনলাইনের মাধ্যমে নিজে নিজেই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবার আপনি নিকটস্থ কোন এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা আবেদন  সম্পূর্ণ করে ভিসা সংগ্রহ করতে পারেন। ভিসা  প্রসেসিং সম্পন্ন করার জন্য বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয় যা আমরা ইতিমধ্যে ওপরে উল্লেখ করেছি।

FAQ

সৌদি আরব ভিসার দাম কত

উত্তরঃ  সৌদি আরবের ভিসার দাম আড়াই লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে বিভিন্ন কাজের  ভিসার ওপর নির্ভর করে খরচ কম বেশি হয়ে থাকে।

সৌদি আরবের ড্রাইভিং ভিসার বেতন কত

উত্তরঃ  সৌদি আরবের ড্রাইভিং ভিসার বেতন ১ হাজার থেকে ১,২০০ রিয়াল  বা তার অধিক হয়ে থাকে।

সৌদি আরবের কাজের ভিসা পাওয়ার উপায়

উত্তরঃ  আপনারা যে কোন এজেন্সির মাধ্যম দিয়ে আপনার সকল  ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে ভিসার জন্য আবেদন করে ভিসা পেতে পারেন। আর সরকারিভাবে যেতে হলে আপনাকে সিল্ক টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং তারপরে আবেদন করতে হবে। তবে আপনি ভিসা পেতে পারেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.