পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২২

0

যারা নতুন পাসপোর্ট করার নিয়ম জানতে চান, কিন্তু সঠিক ও সহজ নিয়মে কিভাবে ও কি কি ডকুমেন্ট লাগবে তা জানতে চান তাদের জন্যই এই পাসপোর্ট করার নিয়ম লেখাটি খুব কাজে লাগবে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হল। আগে ভালোভাবে পড়ুন এর পর নিজে নিজে না করতে চাইলে নিচে দেওয়া হোয়ার্টএ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করে অনলাইনে আবেদন সেবা নিন।

পাসপোর্ট করার নিয়ম

পাসপোর্ট করার জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তর অনুমোদিত ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিয়ে স্লিপ সংগ্রহ করে আবেদন করতে হবে আবেদনকৃত ফরম প্রিন্ট করে সাথে অন্যান্য কাগজ সংযুক্ত করে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। এরপরে বিভিন্ন ভেরিফিকেশন এর মাধ্যমে আপনি আপনার পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।

পাসপোর্ট করতে যা যা লাগে তা হল

  • ভোটার আইডি কার্ড অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি
  • বিদ্যুৎ বিলের কপি
  • ব্যাংক জমা রশিদ
  • পুরনকৃত ফরম
  • ছবি

পাসপোর্ট করার নিয়ম

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পাসপোর্ট অধিদপ্তর অনুমোদিত কয়েকটি ব্যাংক রয়েছে যেকোনো ব্রাঞ্চ ফি জমা দেওয়া যাবে জমা দেওয়া যাবে। ব্যাংকগুলো হলঃ-

  1. সোনালী ব্যাংক
  2. ট্রাস্ট ব্যাংক
  3. ব্যাংক এশিয়া
  4. প্রিমিয়াম ব্যাংক
  5. ঢাকা ব্যাংক
  6. ওয়ান ব্যাংক

এই ব্যাংকগুলোর যেকোনো ব্যাংকে আপনি আপনার পাসপোর্ট ফি দিতে পারবেন ব্যাংক থেকে প্রমাণ স্বরূপ স্লিপ সংগ্রহ করুন যেটা আপনার পাসপোর্ট ফরম জমা দেওয়ার সময় কাজে লাগবে।

পাসপোর্ট এর জন্য অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার পরে পাসপোর্ট এর জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি না করলে আপনি পাসপোর্ট করতে পারবেন না আর পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনার চলে যেতে হবে passport.gov.bd ওয়েবসাইটে।

পাসপোর্ট করার নিয়ম

এখানে আপনি একটি ফরম পাবেন এখানে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড অথবা আপনার জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী সমস্ত তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করুন এবং অনলাইনে সাবমিট করবেন। গুরুত্বপূর্ণ জেনে রাখা ভালো আপনার আইডি কার্ড এবং আপনার জন্ম নিবন্ধন কার্ড সম্পূর্ণ মিল থাকতে হবে যদি আপনার আইডি কার্ডের সাথে আপনার জন্ম নিবন্ধন মিল না থাকে তাহলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে নিবেন। পাসপোর্ট আবেদন করার পরে আপনার উক্ত আবেদন কপি ডাউনলোড করে নিবেন ডাউনলোড করার জন্য নিচের ছবির মত ডাউনলোড অ্যাপ্লিকেশন এ ক্লিক করুন একটি রঙিন প্রিন্ট করবেন।

পাসপোর্ট করার নিয়ম

পাসপোর্ট এর জন্য ফরম পূরণ

উপরোক্ত দুটি প্রক্রিয়া শেষ হলে আপনাকে পাসপোর্ট আবেদনের জন্য পাসপোর্ট ফরম সংগ্রহ করে সেই ফর্মটি পূরণ করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের পরবর্তী 15 দিন এর মধ্য পাসপোর্ট ফরম আপনার অনলাইনে খুব সহজে পেয়ে যাবেন অথবা আপনি যে কম্পিউটার দোকানে গিয়ে আবেদন করেছেন সেখানে গিয়ে সেটি পেতে পারেন অথবা পাসপোর্ট ফরম ডাউনলোড করার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন। এখানে ৩ পেজের একটি পাসপোর্ট ফরম পিডিএফ ফাইল পাবেন সেটি ডাউনলোড করে সাদা কাগজে রঙিন ক্রিম করুন। উক্ত পাসপোর্ট এর ফরম আবেদনকারী একটি রঙিন 55 x 45 এম এম সাইজের ছবি আঠা দিয়ে লাগিয়ে সত্যায়ন করতে হবে ।

পাসপোর্ট করার নিয়ম

এরপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল আপনি যে টাকা জমা দিয়েছেন ব্যাংকে সেখানে থেকে যে আপনার একটি স্লিপ দেওয়া হয়েছে সেই সিলেটি মুক্ত ফোরামের সাথে আঠা দিয়ে উপরের অংশ লাগিয়ে দিতে হবে। যেমনটা নিচে ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন

পাসপোর্ট করার নিয়ম

লাল দাগ দেওয়া সমস্ত বডিতে আঠা দিয়ে লাগিয়ে লাগানোর দরকার নাই শুধুমাত্র উপরের অংশ লাগিয়ে দিবেন যাতে একটার সাথে একটা সংযুক্ত হয় যার যেমনটা পিনাপ করলেও হয়। তবে ভুলেও পিনআপ করবেন না। এই কাজটি হয়ে গেলে আপনার পরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহ করে সেটি সত্যায়ন করা।

এই কাজটি করার জন্য অনেকে দালালের সহযোগিতা নিয়ে থাকে। তবে এই কাজটি আপনি চাইলে নিজে করতে পারবেন। প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, সিটি মেয়র, সিটি বিসিএস কীর্ত কর্মকর্তা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমূহ ইত্যাদি।

পাসপোর্ট অফিসে ফরম জমা দেয়া পাসপোর্ট করার নিয়ম

অনলাইনে আবেদনকৃত পিরিন ফরম এবং হাতে পূরণ কৃতিত্ব প্রিন্ট ফরমের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট যেমন ভোটার আইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন সনদ ফটোকপি এর সাথে আপনার বিদ্যুৎ বিলের এক কপি নিয়ে নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে চলে যাবেন। সেখানে বিভিন্ন কাউন্টারে দেখতে পাবেন আপনার একটি নির্দিষ্ট কাউন্টারে দেয়া হবে উক্ত কাউন্টার থেকে আপনার ফর্ম গুলো এবং আপনার ডকুমেন্টগুলো দেখাবেন উক্ত কাউন্টারে কর্মকর্তাদের।

পাসপোর্ট এর জন্য ছবি তোলা এবং ফিঙ্গার দেওয়া

পাসপোর্ট অফিসে ফরম জমা দেওয়ার পরে উক্ত কর্মকর্তারা সেটিকে বৈধতা যাচাই করবে সমস্ত কিছু যাচাই-বাছাই করার পর আপনাকে একটি স্লীপ দেওয়া হবে তারপর আপনাকে একটি অন্য কাউন্টারে কথা বলবে সেখানে আপনাকে আপনার বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং আপনার ছবি তোলার জন্য বলা হবে। অনেক ক্ষেত্রে ছবি তোলার কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন থাকে সেক্ষেত্রে আপনার লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সবশেষে আপনি যখন কাউন্টারে প্রবেশ করবেন তখন আপনার সেই স্লিপ দেখাতে হবে তারপরে আপনার ছবি তুলতে এবং আপনার চোখের রেটিনা নেবে সাথে সাথে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নেবে।

এই সমস্ত বায়োমেট্রিক যাচাই-বাছাই হওয়ার পর আপনাকে তারা একটি ফাইনাল ডেলিভারি স্লিপ দিয়ে দেবে যেখানে একটি তারিখ উল্লেখ থাকবে । আপনার পাসপোর্ট আপনি কবে পাবেন হাতে। তথ্য ডেলিভারি স্লিপ একটি এনডেডেল নাম্বার এবং একটি অ্যাপ্লিকেশন নাম্বার বা পিন নাম্বার থাকবে যেটি দিয়ে আপনি অনলাইনে অনলাইন থেকে আপনার পাসপোর্ট এর বর্তমান স্ট্যাটাস জানতে পারবেন যে আপনার পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে কিনা সর্বশেষ আপনি যখন উঠতো তারিখ পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আপনার প্রমাণ নাতি দেখানোর সাথে সাথে দেখাবেন তখন তারা আপনার কাঙ্খিত পাসপোর্ট টি দিয়ে দেবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.