মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা ২০২৩ (আবেদন ও বেতনসহ বিস্তারিত)

0

মালয়েশিয়া অনেকে অনেক রকম কাজ নিয়ে যেতে চান অর্থ উপার্জন করার জন্য। আজকে আমরা আপনাদের সঙ্গে মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই আলোচনা থেকে আপনারা ফ্যাক্টরি ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। আপনারা যারা মালয়েশিয়া যেতে চান তাদের জন্য আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি অত্যন্ত মূল্যবান। তাই পুরো আর্টিকেলটি জুড়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন ইনশাআল্লাহ উপকারে আসবে।

আজকের এই আর্টিকেল আলোচনা করা হবে মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা সম্পর্কে। আরো এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। যেমন, মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরির ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে, মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসার বেতন কত, মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন, মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি কাজ, আবেদন করার নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে। চলুন এই সকল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা ২০২৩

মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য অনেকেই ফ্যাক্টরি ভিসা এবং কলিং ভিসা সম্পর্কে জানতে চান। তাই আজকে আমরা এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। যা থেকে আপনারা খুব সহজেই আপনাদের মনের সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

অন্যান্য বছরের মত ২০২৩ সালে ও অনেকেই ফ্যাক্টরি ভিসা নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন। মালয়েশিয়া সরকার বা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে অনেক শ্রমিক কাজ করার জন্য নিয়ে থাকেন। প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে বিভিন্ন ধরনের ভিসা নিয়ে কাজ করতে যান। তার মধ্যে একটি ফ্যাক্টরি ভিসা।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরির ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে ফ্যাক্টরি ভিসা নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে আপনার খরচ হবে প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা। তবে এটাই নির্দিষ্ট নয় কিছু টাকা কম অথবা বেশি হতে পারে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে। তবে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে আপনি যদি মালয়েশিয়া যেতে পারেন তাহলে আপনার তেমন লস হবে না।

বর্তমানে দালাল অথবা যে কোন এজেন্সির মাধ্যমে যদি আপনি যান সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা দেবেন। অন্যথায় আপনি যত বেশি টাকা প্রদান করবেন তাদের তত বেশি টাকা লাভ হবে। আপনি যদি মালয়েশিয়া যাবার জন্য দালাল দিয়ে সাহায্য নেন তাহলে আপনার খরচ হবে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ টাকার মতো। যা অনেকাংশেই বেশি। তাই যাবার পূর্বে যে দেশে যাবেন সেই দেশের বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসার বেতন 

একজন শ্রমিক ফ্যাক্টরি ভিসায় কাজ করে প্রতিমাসে আয় করতে পারবেন সর্বনিম্ন ৩৫ থেকে ৮০ হাজার বা তারও বেশি টাকা। কাজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে বেতন বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আপনি যদি প্রথম অবস্থায় মালের সাথে ফ্যাক্টরি ভিসায় গিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনি সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসার  সম্পর্কে আপনাদের জানা উচিত। কেননা আপনি মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মূলত অর্থ উপার্জন করার জন্য। সুতরাং এই বিষয়টি জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরী। আপনি মালেশিয়া গিয়ে প্রতি মাসে কত টাকা আয় করতে পারবেন এবং কত টাকা সেভ করতে পারবেন তা পূর্ব থেকে পরিকল্পনা করে রাখলে আপনার পথচলা সহজ হবে।

পূর্ব থেকে খরচ সম্পর্কে অবগত থাকলে দালালরা আপনাকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে পারবে না। তাই আপনি যে দেশে যান না কেন সে দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেবেন।

আরও জানুন সৌদি আরব কাজের ভিসা ২০২৩

পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সৌদি ভিসা চেক

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

যে কোন দেশে যাবার পূর্বে আমাদের অনেক গুলো ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়ে থাকে। যে সকল ডকুমেন্টস গুলো বৈধ না হলে আমরা সে দেশের ভিসা পাবোনা। বা ডকুমেন্টস এ কোন ভুল থাকলে এক্ষেত্রে আমরা ভিসা পাই না। সুতরাং কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয় এই সম্পর্কে জানা আমাদের সকলের জন্য জরুরী। তা না হলে ডকুমেন্টস এর ভুলের কারণে আমরা ভিসা থেকে বঞ্চিত হতে পারি। চলুন জেনে নেওয়া যাক মালয়েশিয়া যেতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন।

  • প্রথমত আপনার একটি পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হবে। যাতে সর্বনিম্ন ৬ মাস এবং দুই বছর বা তার বেশি মেয়াদী হতে হবে। কেননা আপনি সেখানে কাজ করতে যাবেন সুতরাং আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ যত বেশি থাকবে ততই ভালো।
  • আবেদনকারী জাতীয় পরিচয় পত্র এবং জন্ম নিবন্ধন এর প্রয়োজন হবে।
  • সদ্য তোলা রঙিন ছবির প্রয়োজন হবে।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর প্রয়োজন হবে অবশ্যই ব্যাংক স্টেটমেন্ট টি শেষ ছয় মাসের হতে হবে। যেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর তথ্য দিবেন সেই ব্যাংক স্টেটমেন্টে অবশ্যই লেনদেন থাকতে হবে।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
  • মেডিকেল রিপোর্ট, এটা নিয়ে থেকে মূলত শারীর কোন সমস্যা আছে কিনা তা দেখার জন্য।
  • কোরনার টিকা কার্ড।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসায় গিয়ে ওভারটাইম করা যায়

অনেকে রয়েছেন যারা মালয়েশিয়াতে ফ্যাক্টরি ভিসা নিয়ে যেতে ইচ্ছুক। তাদের অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে ফ্যাক্টরি ভিসায় গিয়ে ওভারটাইম কাজ করতে পারবে কিনা। ফ্যাক্টরি ভিসাই গিয়ে ওভারটাইম কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা
মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা

ওভারটাইমের জন্য এক্সট্রা বেতন দেওয়া হবে। যা মূল বেতন থেকে আলাদা। একজন শ্রমিক মূল ডিউটি এবং ওভারটাইম সহ কাজ করে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা কি চালু আছে

বর্তমান সময়ে মালয়েশিয়ার ভিসা চালু রয়েছে। পূর্বে মালয়েশিয়া ভিসা বেশ কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল। করনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে যাবার ভিসা বন্ধ ছিল। তেমনিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার ভিসাও বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা খুলে দিয়েছে।

এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশ থেকে এখন অসংখ্য মানুষ মানুষের সাথে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন। যারা অনেকেই এজেন্সি এবং অনেকেই দালালদের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা আবেদন

আমরা সকলেই জানি যে কোন দেশে যাবার পূর্বে সে দেশে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। মালয়েশিয়া ও তার বেতক্রম নয় এখানে যেতে হলেও আপনাকে পূর্বে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া আপনার অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। আবার অফলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে সকল রিপোর্টিং এজেন্সি রয়েছে সেই সকল সেগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারেন।

 বাংলাদেশে অনেক এজেন্সি রয়েছে যে সকল এজেন্সি গুলো প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে মানুষ প্রেরণ করে থাকছেন। আপনি সেই সকল এজেন্সি গুলোর সাহায্য নিয়ে মালয়েশিয়া যেতে পারেন। যেমন, ঢাকা, মহাখালীতে যে বুয়েসেল রয়েছে তার মাধ্যমে আপনারা বিভিন্ন দেশে যেতে পারেন।

মালয়েশিয়া জুতা ফ্যাক্টরি

মালয়েশিয়াতে জুতা ফ্যাক্টরি অনেক কোম্পানি রয়েছে। যে সকল কোম্পানিগুলোতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন কর্মী কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশের ও অনেক কর্মী রয়েছে জুতা ফ্যাক্টরিগুলোতে। আপনি যেহেতু মালয়েশিয়াতে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে যাবেন সুতরাং আপনাকে ফ্যাক্টরি ভিসা নিয়ে যেতে হবে। এই সকল ফেক্টরাগুলোতে বেসিক ডিউটি থাকে ৮ ঘন্টা। আর ওভারটাইম এর সুযোগ সুবিধা ও রয়েছে। ওভারটাইমের জন্য এক্সট্রা বেতন দেওয়া হয়। 

এই সকল ফ্যাক্টরিগুলোতে সপ্তাহে ছয় দিন ডিউটি এবং একদিন ছুটি থাকে। তবে আপনি যদি ছুটির দিন ও কাজ করতে চান তবে আপনি কাজ করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে পেমেন্ট প্রদান করা হবে। মালয়েশিয়াতে ১৩ দিন পাবলিক ডে আছে এ ১৩ দিন ছুটি থাকে। এমন দিনগুলোতে কাজ করলে স্যালারি ৩ ডাবল দিয়ে থাকে। যেমন, বেসিক বেতন, আর ছুটির দিনে কাজ করার জন্য ডাবল বেতন। এ সকল ফ্যাক্টরিগুলোতে কাজ করে প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ২৫০০ রিংগিত অনায়াসে আয় করতে পারবেন।

মালয়েশিয়া ফার্নিচার ফ্যাক্টরি

মালয়েশিয়াতে অনেকেই ফার্নিচার ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। যারা মালয়েশিয়াতে ফার্নিচার ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন তারা মূলত ২০০০ রিঙ্গিত থেকে শুরু করে ৩০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত বেতন পেয়ে থাকে। ওভারটাইম বেশি হলে বেতন আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে। মালয়েশিয়াতে অনেক ফ্যাক্টরি রয়েছে যে সকল ফ্যাক্টরি গুলোতে সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি। আপনি যদি মালয়েশিয়াতে ফার্নিচার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে চান তবে উন্নত এবং ভালো ফ্যাক্টরিতে যাবেন। তাহলে বেশ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাবেন। ফার্নিচার ফ্যাক্টরিগুলোতে মূলত ফার্নিচার রিলেটেড সকল কিছু তৈরি করা হয়। যেমন, চেয়ার, টেবিল, শোকেস, পালং ইত্যাদি।

লেখক এর মন্তব্য

মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা ২০২৩ নিয়ে আজকে আমরা আপনাদের সঙ্গে  বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আমরা আশাবাদী যে আজকের আমাদের এই কন্টেন্ট থেকে আপনারা বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন। আমরা খুঁটিনাটি বিষয় সহ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আপনার যদি এই সম্পর্কে আরো কোনো তথ্য জানার থাকে। তাহলে আপনারা সে সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.