অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ( সঠিক পদ্ধতি )

0

অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আমাদের সকলেরই সচেতন হওয়াটা খুবই জরুরী। কারণ বর্তমানে আমাদের দেশের জমি নেই এমন মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য।  তাই আমাদেরকে জানতে হবে কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে জমির খাজনা পরিশোধ করতে হয়,  এছাড়াও প্রতি শতাংশ জমির জন্য কেমন কর ধার্য করা হয় এবং কোথায় গিয়ে জমির খাজনা প্রদান করতে হয় ।

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার জন্য আমাদের এই কন্টেনটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের এই কনটেন্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়া সম্পর্কে একটি সুস্থ ধারনা পাবেন।

খাজনা বা ভূমি কর কাকে বলে 

 প্রতি শতাংশ জমির জন্য আমরা একটি বছরের জন্য সরকারকে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করে তাকেই ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা বলা হয়।

 অনলাইনে  খাজনা দেওয়ার সঠিক নিয়ম

  •  অনলাইনে খাজনা দেওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে নিচে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করতে হবে।
  • এরপর সেখানে একটি ফরম থাকবে যেটি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
  • পরবর্তীতে আপনি জমির মালিকের নাম হোল্ডিং নং এবং সর্বশেষ পরিষদ বিলের তথ্য দেখতে পারবেন
    এবার আপনাকে আপনার এন আইডি কার্ড যাচাই করন অপশন এ ক্লিক করতে হবে।
  •  ক্লিক করার পর সেখানে আপনার মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার সাবমিট করতে হবে ।
  •  এরপর খাজনা পরিশোধকারী ব্যক্তির নাম তার পিতার নাম মাতার নাম ছবি এবং জন্ম তারিখ দেখতে পাবেন।
  •  পরবর্তীতে আপনার জমি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সেখানে কত বছর খাজনা দেওয়া হয়নি ,সর্বশেষ খাজনার তথ্য, কত টাকা খাজনা লাগবে এসকল তথ্য দেখতে পারবেন।
  •  এরপর পেমেন্ট অপশনে গিয়ে আপনাকে একটি মোবাইল ব্যাংকিং পেমেন্ট সিস্টেম সিলেক্ট করতে হবে।
  •  মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরটি দিয়ে কনফার্ম ক্লিক করতে হবে।
  •  উক্ত মোবাইল নম্বরে একটি ছয় সংখ্যার ওটিপি কোড প্রেরণ করা হবে।
  •  ওটিপি কোড সাবমিট করার পর পিন নাম্বার দিয়ে কনফার্ম করতে হবে।
  •  তাহলেই আপনার অনলাইনে জমির কর দেওয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে মনে রাখতে হবে মূল রশিদ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

অনলাইনে খাজনা নেওয়ার লিংক

জমির কর পরিশোধ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে সরকারি ভুমি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য ভিজিট করুন https://ldtax.gov.bd/citizen/register  .  ভিজিট করার পরে ওপরে দেখানো প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করলেই খুব সহজে  জমির খাজনা দিতে পারবেন।

জমির খাজনা কত টাকা শতক

খাজনা পরিশোধ করার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো কত টাকা খাজনা দিতে হয় সে সম্পর্কে জানা। কারণ আপনি যদি শতকের হিসেবে টাকার পরিমান টা না জানেন তাহলে আপনাকে খুব সহজেই প্রতারণার শিকার হতে হবে। তাই খাজনা পরিশোধ করার আগে  টাকার হিসাব জেনে নেওয়া উচিত। আসুন তাহলে শুরু করা যাক,

  •  প্রতি ১০ থেকে ১৫ একর জমির জন্য ধরা হয় ২৩১ টাকা, তবে এটা প্রথম ১০ একর জমির জন্য। পরবর্তীতে প্রতি শতাংশ প্রতি ৬০ পয়সা করে ধরা হয়।
  •  এবং ১৫ থেকে ২৫  একর যাদের জমি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে  প্রথম ১৫ একরের জন্য ৫৩১ টাকা করে ধরা হয় এবং পরবর্তী শতাংশের জন্য ৬০ পয়সা করে হিসাব করা হয়।
  •  যাদের পঁচিশ  একর এর অধিক জমে থাকে তাদের প্রথম ২৫ একরের জন্য ১৪৮১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি শতাংশ প্রতি এক টাকা ৪৫ পয়সা করে হিসাব করা হয়।

 জমির খাজনা ক্যালকুলেটর

 জমির খাজনা ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে আপনার জমির শতাংশ হিসাব করে টাকার পরিমাণটি বের করতে পারবেন।  এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে সরকারি একটি অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করতে হবে। অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করতে হলে এখানে ক্লিক করুন। অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করার পর আপনার জমির তথ্য দিয়ে খুব সহজে ক্যালকুলেশন করতে পারবেন।

 জমির খাজনা চেক করার নিয়ম

অনলাইনে আপনার জমির সর্বশেষ আপডেট তথ্যগুলো পাওয়ার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করতে হবে। নিচের লিংকে ক্লিক করে আপনার মোবাইল নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। পরবর্তীতে আপনার জমির খতিয়ান তথ্য দিয়ে খাজনা চেক করতে পারবেন। 

অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ( সঠিক পদ্ধতি )

 জমির খাজনা না দিলে কি হয়

 বাংলাদেশের অনেক জনগণ এখনো বোকামির মতো প্রশ্ন করে যে জমির খাজনা না দিলে কি হয়? তারা এখনো মনে করে জমির খাজনা  দেয়ার সিস্টেমটা পুরোপুরি  ভুয়া। তবে বেশিরভাগ মনে রাখতে হবে আপনি যদি আপনার জমির খাজনা পরিশোধ না করেন তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের পর সে জমিটির খাস জমিতে পরিণত হবে। 

 খাস জমি  বলতে আমরা সরকারি হিসেবে ধরে নিতে পারি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনি যদি আপনার জমির খাজনা পরিশোধ না করেন তাহলে  আপনার মালিকানা থাকবে না জমিটি পুরোপুরি সরকারের আওতায় চলে যাবে।

 ভূমি কর  দিতে প্রয়োজনীয়  ডকুমেন্টস

  •  নাগরিকের ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র
  •  জমির খতিয়ান এর ফটোকপি
  •  অথবা পূর্ববর্তী খাজনা দেওয়ার রশিদ
  •  একটি সঠিক মোবাইল নম্বর
  •  একটি অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম

 ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের সুবিধা 

 আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করার কারণে তারা আইন বিষয়ে খুব একটা বেশি সচেতন না। ফলে তারা ভূমির আয়কর বিষয়ে খুব বেশি ভাবে না। তবে প্রতিটি নাগরিকালী জানা উচিত জমির খাজনা প্রধানের সুবিধা গুলো কি কি। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক জমির খাজনা  প্রদানে কোন কোন সুবিধা গুলো পাওয়া যায়:

  •  আপনি যদি নিয়মিত জমির খাজনা প্রদান করেন তাহলে আপনার রেকর্ড হাল নাগাদ থাকবে।
  •   নিয়মিত জমির খাজনা পরিশোধ করলে আপনার জমি নিলামে ওঠার সম্ভাবনা থাকে না।
  •  আপনি জমির মালিক এটা প্রমাণের গুরুত্ব হিসেবে জমির খাজনা প্রদানের দাখিল রশিদ গুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
  •  অনেকেই নিয়মিত জমির খাজনা প্রদান না করার কারণে প্রতারক চক্র অবৈধ রেকর্ড তৈরি করে গোপনে নামজারি বা মিউটেশনের জন্য আপিল করে। আপনি যদি নিয়মিত কর প্রদান করেন তাহলে তারা মিউটেশনের জন্য আপিল করতে পারবে না।

 জমির খাজনা কোথায় দিতে হয়

স্বাভাবিকভাবে এই প্রশ্নটা অনেকের মধ্যেই থাকে। এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় যে পূর্বের দিনগুলোতে সরাসরি ভূমি অফিসে গিয়ে খাজনা পরিশোধ  করার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে ভূমি অফিসের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমেও খাজনা পরিষদ করা যাচ্ছে।তবে  খাজনা পরিশোধ করার জন্য কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেমন বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত না।

 এ কথা সত্য যে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করলে তা শতভাগ দালাল মুক্ত হয়। তাই যারা অনলাইন সম্পর্কে বোঝেন তারা অবশ্যই অনলাইনের মাধ্যমে জমির খাজনা পরিশোধ করার চেষ্টা করবেন। যারা অনলাইন সম্পর্কে বোঝেন না তারা অবশ্যই সরাসরি ভূমি অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজ না পরিশোধ করবেন। এক্ষেত্রে ভূমি অফিসের আশেপাশে ছোটখাটো অনেক প্রতারক চক্র দেখা যায় তাদের সাথে কোনোভাবেই আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা করবেন না।

খাজনা দেওয়া  নিয়ে কিছু সতর্কতা

পরিমাণে অল্প কিংবা বেশি প্রতিটি মানুষেরই  জমি রয়েছে। এবং জমি থাকলে তার একটি কর সরকারকে অবশ্যই দিতে হবে। তবে কিছু মানুষ এ ব্যাপারে একেবারে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে আপনি যদি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনার জমির কর পরিষদ না করেন তাহলে জমিটি আপনার মালিকানা বাতিল হয়ে যাবে।

এছাড়াও মনে রাখতে হবে যে কিছু বিশেষ শর্তে  খাজনা মওকুফ করা হয়। এক্ষেত্রে যাদের আয়ের উৎস একেবারে কম এবং জমির পরিমাণ অল্প তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষেরই উচিত তাদের নিজ নিজ জমির কর  দেয়া।  আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে নিয়মিত কল পরিশোধ করি তাহলে আমাদের দেশ এবং জাতি সকলেরই উন্নতি হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.